একই সঙ্গে ব্যবসায়িক লোকসান ও পরিচালন চ্যালেঞ্জের কারণে কোম্পানিটি তাদের বিদ্যমান ‘ওয়াশিং প্লান্ট ইউনিট’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয় এবং একই দিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ-সংক্রান্ত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
যন্ত্রপাতি বিক্রির কারণ সম্পর্কে কোম্পানিটি জানিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে তাদের কারখানায় বিভিন্ন মডেলের ১৯২টি অকেজো, অচল ও উৎপাদন অনুপযোগী যন্ত্রপাতি জমা হয়ে ছিল। দীর্ঘকাল ব্যবহারের ফলে এ মেশিনগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে গিয়েছিল, অথচ এগুলোর গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত উচ্চ। ফলে উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও কম উৎপাদন দক্ষতার কারণে এগুলো চালানো কোম্পানির জন্য আর্থিকভাবে লোকসান ছিল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞাপন বা দরপত্র প্রকাশের মাধ্যমে কোটেশন আহ্বান করে। পরে প্রাপ্ত দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ দরদাতার প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে। পুরো ১৯২টি যন্ত্রপাতির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বিক্রি হতে যাওয়া যন্ত্রপাতির তালিকায় ডেনিম লেজার এনগ্রেভিং সিস্টেম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং মেশিন, এনার্জি এফিশিয়েন্ট ড্রাইয়ার ও গার্মেন্টস ডায়িং মেশিনসহ বিভিন্ন মেকানিক্যাল ইকুইপমেন্ট রয়েছে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাও ওয়েন ফু স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওয়াশিং প্লান্ট ইউনিটের পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধির কারণে এ ইউনিট থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা আসছিল না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্বার্থ, খরচ সংকোচন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ওয়াশিং প্লান্টটি বন্ধ করে সেটিকে একটি আধুনিক ফ্যাব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। একই সঙ্গে পুরনো যন্ত্রপাতির বদলে গ্যাস সাশ্রয়ী ও উচ্চ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক ও হাই-টেক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফ্যাব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের নতুন পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পরবর্তী সময়ে তা যথাসময়ে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ২১ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪৭ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১৫ পয়সায়।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৫১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৪১ পয়সায়।
২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ১৯০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৫৪ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৩। এর ৪৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৩৮, বিদেশী বিনিয়োগকারী ২ দশমিক ৪৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।